অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর: আয়েন উদ্দিন এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৩১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২০ শনিবার

রাজশাহী পবার দারুশায় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেছেন, যার লেজ আছে শিং নাই এরকম পশু খুবই হিংস্র হয়। আর যার শিং লেজ দু’টোই আছে-এমমন প্রাণি শান্ত হয়। কিন্তু যার লেজ ও শিং নেই এমন জীবের অনেকেই হিংস্র পশুর চেয়েও খারাপ হয়। এরা আমাদের মধ্যেই বাস করে। এরাই শিশু ও নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করে থাকে। এদেরকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করতে হবে।

শনিবার পবা উপজেলার আরএমপি কর্ণহার থানার আয়োজনে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, যারা রাজশাহীতে বোমা ফাটালে ঢাকা-চট্টোগ্রামে একই সাথে বোমা ফাটাই-তাদের ইন্দনে একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করা পায়তারা করছে। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারে ওই গোষ্ঠির উদ্দেশ্য নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নয়। তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা করছে মাত্র। গঠনশীল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে না যেয়ে তারা শুধু ছঁতো খুঁজে বেড়ায়। শকুন যেমন দোয়া করে প্রাণি মরার জন্য-তেমনি ওই গোষ্ঠি উস্কানি দিয়ে নতুন নতুন ইস্যু তৈরী করছে। সেই সুযোগ কখনোই তারা পাবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

 

প্রধান অতিথি বলেন, তাদের সময়ে পুঠিয়ার পূর্ণিমাকে ইজ্জত দিতে হয়েছিল ছাত্রদলের হাতে। তারা বিচার পর্যন্ত করেনি। বর্তমান সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে না। বিচার বিভাগ তার নিজ গতিতেই চলছে বলেই জনগণ নির্যাতনের অভিযোগ দিতে পারছে। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

 

কর্ণহার থানা ওসি আনোয়ার আলী তুহিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাশিয়াডাঙ্গা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল বলেন, ধর্ষণ নির্যাতন আগেও ছিল। কিন্তু সামাজিকতা ও লজ্জায় বলতো না। এখন নারীরা সচেতন হচ্ছে বলেই সেটা জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি আইনের আওতায় নির্যাতনকারিরা শাস্তিও পাচ্ছে। জনগণের অর্ধেক নারীদের পিছনে ফেলে ও দাবিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তান কোথায় কোন কাজ করছে। সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং বাড়িতে ফিরছে কিনা-সেটা দেখভালের দায়িত্ব আপনার। সন্তানকে টাকা দিলেন, সেই টাকা সে কি করছে-সেটাও দেখতে হবে। বর্তমানে আরএমপি ১২টি থানার উদ্দেশ্যে এই এলাকায় মাদক নির্মূল, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ রোধ করা। এরপর থেকে এই এলাকায় বাল্য বিবাহ হলে, কাজী, বর, অভিভাবক-এমনকি দাওয়াত খেতে এসছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় নেয়া হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর রহমান, কাশিয়াডাঙ্গা বিভাগ সনিয়ির সহকারি পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী, ডা. অপরাজিতা রায়, হরিপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল, হুজুরীপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, দর্শনপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজ।

উপস্থিত ছিলেন হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি লুৎফর রহমান, পবা উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক সারওয়ারে আলম মানিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ইমাম, কাজী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ।

স/এমএস