এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদসামগ্রী বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫৭ পিএম, ২৭ মে ২০২০ বুধবার | আপডেট: ০৫:৫৮ পিএম, ২৭ মে ২০২০ বুধবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মহীন পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি`র সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদসামগ্রী বিতরন কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণ না করে এখনও ঈদসামগ্রী নিজ বাসায় রাখা, দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা না করে বা তাদেরকে না জানিয়ে বিতরণ করা, প্রকৃত অসহায়-কর্মহীনদের মাঝে বিতরণ না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

০৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হুমায়ন আহমেদ জানান, দ্বিতীয় দফায় ৪৫০ প্যাকেট ঈদসামগ্রী এসেছিল। তারমধ্যে আমার মাধ্যমে এই ওয়ার্ডের ১৮ জন পেয়েছেন। ওয়ার্ডভিক্তিক অনুপাতে এই সংখ্যা অনেক কম হওয়ায়, আমি আনোয়ার হোসেনকে এর কারন জানতে চাই। উত্তরে তিনি জানান, ছাত্রদলের জন্য আলাদাভাবে ৫০টি প্যাকেট বরাদ্দ থাকায় ওয়ার্ডভিক্তিক ভাগ কমে গেছে।

হুমায়ন আহমেদ আরো বলেন, আমি ছাত্রদলকে জানতে চাইলে তারা এই ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে আমাকে জানায়।

এবিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. আলামিন জানান, আমরা স্যতিই অবাক হয়েছি, আমাদের নামে সবাইকে ৫০ প্যাকেট দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু আমরা কিছুই জানিনা। তারমানে দাঁড়ায়, আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি নিজেই অসহায়-কর্মহীনদের ঈদসামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন। এই সময়েও এসব মানুষের খাবার নিয়ে এমন দুর্নীতি দলের ও এমপির ভাবমূর্তী নষ্ট করেছে।

ছাত্রদল কর্মী মো. আশরাফুল আলম বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তা নিয়ে বিতরনের কথা থাকলেও তিনি নিজেই তা করেছেন। এলাকার অনেক খেটে-খাওয়া, অসহায়, দুস্থ, দরিদ্র, কর্মহীন মানুষ বিতরনের দিন কাঁদতে কাঁদতে ঘুরে গেছে। গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রতিবেদককে যে তালিকা দেখান সেখানে ৪৮০ জনের তালিকা পাওয়া যায়।

তিনি জানান, মানুষের চাহিদা অনেক, সেই তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাই একটু এদিক-ওদিক করে সকলের মাঝে বিতরনের চেষ্টা করছি। আর ছাত্রদলের জন্য আলাদাভাবে কোন বরাদ্দ ছিলো না, তাই অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এমনকি তাদেরকে ৫০ প্যাকেট বরাদ্দ দিয়েছি, এই কথাও কাউকে বলিনি। তবে এখনও কিছু খাবার বিতরণ বাকি আছে ও তা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ ও হুমকির কারনে গত মঙ্গলবার দলীয় পদ হতে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, এটি আমার ব্যক্তিগত সহায়তা, তাই তার সাথে কথা বলে ও খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, এর আগেও এমপির বরাদ্দকৃত বিভিন্ন সরকারি কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

স/মা