কারা অধিদপ্তরের ভূমিকা তদন্তের দাবি চার নেতার পরিবারের

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০২:৪৯ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সময় কারা অধিদপ্তরের কী ভূমিকা ছিল সেটি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় চার নেতার সন্তানরা। পাশাপাশি এই মামলা তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এ দাবি জানান তারা।

 

শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম বলেন, কারা বিধি লঙঘন করে সশস্ত্র অবস্থায় কারাগারে প্রবেশ করে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। তখন কারা কর্তৃপক্ষের কি ধরনের ভূমিকা ছিল সেটিও তদন্ত করে দেখা উচিত। কেননা একজন অবৈধ হুকুম দিলেই আইনের বিপরীতে এ ধরনের কাজ করা অবশ্যই অপরাধ।

শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে এ এইচ এম এহসানুজ জামান বলেন, ৩ নভেম্বর জাতির জন্য একটি কালো দিন। সভ্য দেশে কারা অভ্যন্তরে হত্যা কখনোই কাম্য নয়। কারাগারে সবাই সবচেয়ে নিরাপদ থাকে। সেখানে সশস্ত্র ঘাতকরা বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা নিশ্চিত করবেন।

কামরুজ্জামানের ছেলে আরও বলেন, জাতীয় চার নেতার সন্তান হিসেবে আমরা গর্ব করে বলতে পারি, তারা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি বলেই তাদের জীবন দিতে হয়েছে।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ ঘটনার বিচার কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালে আমরা রায় পেয়ে আনন্দিত হয়েছিলাম। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ঘাতকদের দেশে ফিরিয়ে সাজা নিশ্চিত করবেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার আড়াই মাসের মাথায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে (বর্তমানে জাদুঘর) হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও এম মনসুর আলীকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক অধ্যায়।

ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।