কোন ভেষজ চায়ে কী ধরনের পুষ্টিগুণ আছে

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১০:৩১ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২০ বুধবার

বাজারে আজকাল অনেক ধরনের ভেষজ চা পাওয়া যায়। অনেকেই শরীর ভালো রাখতে এসব চায়ের ওপর নির্ভর করেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই জানেন না কোন ধরনের চা কার জন্য বেশি উপকারী। এছাড়া কখন বা কীভাবে এই চা পান করা উচিত তাও অনেকের জানা নেই। বিভিন্ন ধরনের ভেষজ চায়ে যেসব পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়-

তুলসি চা : এক কাপ পরিমাণ পানিতে এক মুঠো তুলসি পাতা ফুটতে দিন। টগবগ করে ফুটলে আঁচ কমিয়ে ১০ মিনিট ফোটান। এরপর এতে এক চামচ মধু আর দু-চামচ লেবুর রস মেশান। মধুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে শক্তি জোগাবে, লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া তুলসির প্রভাবে জ্বর-সর্দি-কাশির প্রকোপ কমবে। নিয়মিত এই চা খেলে প্রদাহের প্রবণতা কমবে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

শুকনো কাশি কমাতে চাইলে এই চায়ে ধনে ও আদা মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে প্রদাহের প্রবণতাও কমবে।


যেভাবে বানাবেন কাশির জন্য তুলসি চা :

এক লিটার পানিতে দু-চামচ আদা কুচি, চার চামচ ধনে ও এক মুঠো তুলসি পাতা দিয়ে কম আঁচে ভাল করে ফোটান। পানি অর্ধেক হলে ছেঁকে নিয়ে তাতে মধু ও লেবু মিশিয়ে খান। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই চা খাওয়া ঠিক নয়। যেমন-

১. গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খাবেন না। কারণ তুলসিতে থাকা এস্ট্রাজল জরায়ুর সংকোচন বাড়াতে পারে।

২. ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে বা ইনসুলিন নিলে নিয়মিত এই চা খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে নেবেন। কারণ তুলসি রক্তে সুগারের মাত্রা কমায় বলে জানা গেছে।

৩. রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ খেলেও তুলসি চা খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে।

 ৪. ব্যথাজাতীয় ওষুধ খেলে তুলসি চা খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। কারণ এতে লিভারের ক্ষতি হবে।

দারুচিনি চা : দারুচিনি, গোলমরিচ, লেবুর রস ও মধু দিয়ে ভেষজ চা তৈরি করতে পারেন।এক চামচ দারুচিনির গুঁড়ার সঙ্গে এক চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, এক চামচ লেবুর রস ও এক চামচ মধুর মধ্যে এক কাপ ফুটন্ত পানি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ছেঁকে নিন। দারুচিনিতে থাকা কুমারিন, গোলমরিচের পিপারিন প্রদাহের প্রবণতা কমায়। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লেবুর ভিটামিন সি-ও একই কাজ করে। মধু শরীরে শক্তি বাড়ায়। তবে কুমারিন বেশি খাওয়া ঠিক নয়। এতে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।

অশ্বগন্ধা চা: রোজ সকালে বা বিকালে এক কাপ অশ্বগন্ধার চা খেতে পারেন। এক কাপ ফুটন্ত পানিতে এক চা-চামচ অশ্বগন্ধা মূলের গুঁড়া দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর সেটা ছেঁকে লেবুর রস ও মধু দিয়ে খান। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রদাহের প্রবণতা কমবে। অশ্বগন্ধায় জীবাণুনাশক গুণও আছে। এটি মানসিক চাপ-অবসাদ ও বয়সজনিত ক্ষয়-ক্ষতির হার কমায়। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকলোজিকাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই চা খেলে খুব সহজে সতেজ ও ফুরফুরে হওয়া যায়। দুধ চা খেলে পানির পরিবর্তে ফুটন্ত দুধে অশ্বগন্ধার গুঁড়ো মিশিয়েও চা বানাতে পারেন।

আদা চা 
: এক চা-চামচ আদা কুচি, দুটি লবঙ্গ, এক ইঞ্চি দারুচিনি থেঁতলে দু-কাপ পানি দিয়ে ফোটান। এরপর এতে কমলালেবুর খোসা মেশান। কম আঁচে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে এতে দেড় চামচ মধু মিশিয়ে খান। এতে জ্বর-সর্দি-গলা ব্যথায় আরাম পাবেন।

হলুদ চা : আধ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা ও সামান্য গোলমরিচের গুঁড়োতে ফুটন্ত গরম পানি মেশান। এরপর এতে গোটা লেবুর রস আর দেড় চামচ মধু নিন।নিয়মিত এ চা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

পুদিনা চা : ফুটন্ত পানিতে রোজমেরি মেশান। এরপর এতে ১০ থেকে ১২টা পুদিনা পাতা মেশান। দেওয়ার আগে একটু কুচি কুচি করে দিলে গন্ধটা পুরোপুরি থাকবে। এরপর ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে পুদিনা পাতার চা পুরোপুরি তৈরি হবে।