চিকিৎসক দম্পতি: জীবনের ঝুঁকি জেনেও লড়ে যাচ্ছেন করোনাযুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:১৮ পিএম, ১৫ জুন ২০২০ সোমবার

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসান। আর তার সহধর্মিনী ডা. সাবেরা গুলনাহার একই কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান। ভাইরোলজি আর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ একসঙ্গে পরিচালনা করছে করোনা পরীক্ষার পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) ল্যাব।

তাই সব দায়িত্ব এই চিকিৎসক দম্পতির কাঁধে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও তারা লড়ে যাচ্ছেন করোনাযুদ্ধে। অথচ ৫৫ বছরেরও বেশি বয়সী এই দম্পতির রয়েছে এ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, আর্থাইটিসের সমস্যা। শারীরিক অসুস্থতা আর বয়সের বাধা পেছনে ফেলে তারা কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের জন্য। তাই রাজশাহীর মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মানুষে পরিণত হয়েছেন তারা।

ডা. বুলবুল হাসান ও ডা. সাবেরা গুলনাহার পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজেই। ২৩তম ব্যাচে দুজনেরই বিভাগ ছিল মাইক্রোবায়োলজি। পড়াশোনা, ইন্টার্নশিপ শেষেই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ডা. বুলবুল হাসান ও সাবেরা গুলনাহারের। তারপর দুজনেই শিক্ষকতায় যোগ দেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। ডা. বুলবুল হাসান এখন কলেজের উপাধ্যক্ষ। করোনাকালে এ দম্পতির অন্যন্য ভূমিকা দৃষ্টি কেড়েছে সবার। গর্বে মাথা উঁচু করছেন তাদের সাবেক সহপাঠীরাও।

এ দম্পতি জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল ৯টায় তারা কলেজের পথে রওনা হন। কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই বাসায় ফেরেন রাতে। বাড়ি ফিরেও একমাত্র মেয়ে ফারজানা ফাইজাকে পাশে পান না তারা। নিজেদের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আছে জেনে বাংলাদেশ আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটারে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস মেয়েটিকে রেখেছেন চাচার বাসায়। আর শ্বাশুড়িকে রেখেছেন আরেক বাসায়। ডা. বুলবুল হাসান ও ডা. সাবেরা গুলনাহার অফিসে যাওয়ার সময় নগরীর মালোপাড়ার ফাইজার চাচার বাড়ির সামনে গাড়ি থামান। ফোন করলে ফাইজা বেলকনিতে এসে দাঁড়ান। দূর থেকেই দেখা আর কথা হয় তাদের। যেদিন খুব ব্যস্ততা থাকে, সেদিন দূর থেকেও আর দেখার সুযোগ হয় না। বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত হন মেয়েটি।

এই চিকিৎসক দম্পতির প্রচেষ্টায় প্রতিদিন ল্যাবে দুই শিফটে ১৮৮টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেকটি ল্যাব থাকলেও সেখানে এক শিফটে ৯৪ নমুনার পরীক্ষা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরেই রামেকের ল্যাবের যাত্রা শুরু হয় গেল ১ এপ্রিল। এ ল্যাবের মাধ্যমেই গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসানের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে মাত্র চারদিনেই ল্যাবটি চালু হয়। সহধর্মিনী সাবেরা গুলনাহারও অবদান রাখেন উল্লেখযোগ্য।

ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেন, যুদ্ধের সময় কিছু প্রিয়জনের কাছ থেকে দূরে থাকতেই হয় সৈনিকদের। আমরাও সৈনিক। তাই একমাত্র কন্যা আর মায়ের কাছ থেকে দূরে থেকেই কাজটি করে যাচ্ছি।

অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই এ্যাজমার রোগী। তবুও ঝুঁকি নিয়েই দেশের স্বার্থে কাজ করছি। আমরা করোনাযুদ্ধে জয়ী হবো আশা করছি। তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা আমাদের সার্বক্ষণিক সাহস যোগান।

সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং সাহস যোগানোর জন্য তিনি মেয়র এবং সংসদ সদস্যের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরীক্ষা কার্যক্রম গতিশীল রাখতে সরকারের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। তাদের জন্য দোয়া চান দেশবাসীর কাছে।

স/র