তানোরে ডিভোর্স দেয়ায় গৃহবধুর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:২৯ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০ শুক্রবার | আপডেট: ১১:৩০ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ী। করেছিলেন বিয়ে। কিন্তু সেই ব্যবসায়ী গোপনে ডিভোর্স দেন ওই নারীকে। বিষয়টি মানতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী। ওই নারীর আত্মহত্যার পর থেকে প্রেমিক থানা মোড়ের শুভ স্টুডিও’র মালিক মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছে।

গৃহবধুর নাম সাহানাজ বেগম (২১)। তিনি তানোর উপজেলার কামারগাঁ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম চাপা ক্ষোভ অসন্তোষের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যোর সৃষ্টি হয়েছে।
তানোর থানা পুলিশ সদরের মহানগর ক্লিনিকের তৃতীয় তলার ভাড়া করা বাসা থেকে ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছেন।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান।

পুলিশ জানায়, প্রবাসীর স্ত্রী সাহানাজ বেগমের একটি কন্যাসন্তান আছে। তিনি মেয়েসহ তার মাকে নিয়ে উপজেলার উত্তর পার্শ্বের জনৈক ইউনুস আলীর বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। প্রবাসী স্বামী প্রতি মাসেই নিয়মিত ভাবেই তার কাছে টাকা পাঠাতেন। ওই টাকা তোলার জন্য প্রবাসীর স্ত্রী সাহানাজ বেগম থানা মোড়ের শুভ স্টুডিও’তে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শারীরিব সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং স্টুডিওর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান এক লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন খবর শুনে প্রবাসে থাকা স্বামী তার স্ত্রী সাহানাজ বেগমকে ডিভোর্স দিয়ে মেয়েকে দাদার বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং শ্বাশুড়ীও চলে যান তার নিজ বাড়িতে।

এঘটনায় ওই গৃহবধু মোস্তাফিজুরের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তানোর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু কোন ডকুমেন্ট বা স্বাক্ষী না থাকায় টাকা আদায় করা যায়নি।

গত ২৫ জুন ওই গৃহবধু বিয়ের দাবিতে থানা মোড়ের শুভ স্টুডিওতে অনশন শুরু করার পর শুভ স্টুডিওর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান ওই গৃহবধু প্রেমিকাকে বিয়ে করে মহানগর ক্লিনিকের তৃতীয় তলার ভাড়া করা বাসায় সংসার শুরু করেন।

কোরবানি ঈদের পর থেকে মোস্তাফিজুর তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ ও যাতায়াত বন্ধ রাখেন এবং গত রোববার কোর্টের মাধ্যমে তার প্রেমিকা গৃহবধু সাহানাজকে ডিভোর্স দেন। মোস্তাফিজুরের ডিভোর্স পত্র হাতে পাওয়ার পর উভয়পক্ষের মধ্যে আপসের চেষ্টা চলছিল।

১৪ আগস্ট শুক্রবার দুপরের যেকোন এক সময় ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধু সাহানাজ বেগম। বিকাল ৩টার দিকে ক্লিনিকের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা ডাকা-ডাকি করেন। কিন্তু সাহানাজ ঘরের দরজা না খোলায় তানোর থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। তবে, প্রেমিক মোস্তাফিজুরের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন এবং স্টুডিও বন্ধ রয়েছে।

তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাহানাজের মাকে খবর দেয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

স/এমস