নতুন রূপে বাইক

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:৪৪ এএম, ৫ জুন ২০২১ শনিবার

যানজটের নগরীতে যাতায়াতের অন্যতম বাহন হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল বা বাইক। অফিসে যাতায়াত ছাড়াও বর্তমানে তারুণ্যের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বাইকিং। একটু সময় পেলেই বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দূরে কোথাও। তরুণদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাইকের ডিজাইনে আসছে পরিবর্তন। আবার অনেকে নিজের পছন্দমতো বাইক সাজিয়ে নেন। অনেক সময় পাল্টে ফেলেন রং। এই কাজের জন্য জনপ্রিয় একটি স্থান পুরান ঢাকার বংশাল। জায়গাটি অনেক আগে থেকেই মোটরসাইকেল রিনোভেশন কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে স্টিকার। স্টিকারের আদ্যোপান্ত জানতে তাই কথা হয় আরজে বাইক স্টিকার নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শুভর সঙ্গে।

তিনি জানান, মোটরসাইকেলে স্টিকারের প্রবণতা মূলত এটিকে স্ট্ক্র্যাচ পড়া থেকে বাঁচানো কিংবা ধুলাবালি বা কাদা থেকে বাঁচানো এবং এর পাশাপাশি পছন্দের বাহনটিকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানো। শোরুমগুলোতে যখন বাইক ইম্পোর্ট করে আনা হয়, এটি পাতলা পলিথিনে মোড়ানো থাকে। এই ধারণা থেকেই মূলত স্টিকারের প্রচলন শুরু। প্রথমদিকে বাংলাদেশে ছোট ছোট সাইজের স্টিকার আসত। এরপর বিভিন্ন কোম্পানির লোগো সংবলিত স্টিকার আসা শুরু করে এবং বর্তমানে স্টিকারগুলো আসে রোল হিসেবে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড থেকে এক ধরনের বিশেষ স্টিকার আসে, যা দামি মোটরবাইকগুলোর জন্য একটি বাইক-একটি স্টিকার রোল হিসেবে আমদানি করা হয়।

স্টিকারের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন মানের এবং কোম্পানির স্টিকার। বর্তমানে ট্রেন্ডে আছে ৫ডি কার্বন ফাইবার স্টিকার। এর আগে পর্যায়ক্রমে ৩ডি, ৪ডি ও ২ডি ট্রেন্ডি ছিল। এ ছাড়া রয়েছে পিটি৫, ক্রোম কালার এবং বিভিন্ন মানের ও ধরনের স্টিকার। এক সময় ক্যামো ফ্ল্যাশ স্টিকার ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এ তো গেল বাইকের বডিতে ব্যবহারযোগ্য স্টিকার। বাইকের চাকায় অর্থাৎ রিমে লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হয় রেডিয়াম স্টিকার, যা অন্ধকার রাস্তায় ঝকমক করবে। স্টিকারগুলোর মধ্যে মোটোজিবি ভার্সনের স্টিকার অত্যন্ত জনপ্রিয়। তা ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে কাস্টমাইজ স্টিকার ডিজাইন ও প্রিন্টিং সুবিধা। অর্থাৎ বাইক রাইডারদের জন্য রয়েছে ইচ্ছামতো ডিজাইন প্রিন্ট করে বাইক মডিফাইয়ের সুযোগ।

বর্তমানে স্টিকার মার্কেটে প্রতিযোগিতা অনেক থাকলেও শুরুতে এতটা কম্পিটিশন ছিল না। শুরুর দিকে শুধু নিজেদের প্রিন্ট করা স্টিকারের প্রচলন থাকলেও দিন দিন এর চাহিদা বাড়ার কারণে মার্কেটে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা স্টিকার নিয়ে কাজ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, স্টিকার ডিজাইনার থেকে ওয়ার্কাররা একে নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। স্টিকার ডিজাইনার এবং ওয়ার্কারদের শৈল্পিক মননশীলতায় ফুটে ওঠে সৃষ্টিশীলতা।

একটি স্টিকারের দোকানে জায়গা ও সময় ভেদে প্রতিদিন গড়ে ৫-৭টি বাইকে স্টিকারের কাজ করা হয় এবং মাসে গড়ে ১৫০ মোটরসাইকেলে স্টিকারের কাজ করা হয়। বাইক স্টিকারের আদ্যোপান্ত খুঁজতে গিয়ে জানা হয় বাইক রাইডারদের মতামত। তাদের মতে, নিজের পছন্দমতো বাইককে সাজাতে, বাইককে স্ট্ক্র্যাচ, কাদা ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করতে এবং সর্বোপরি একে নতুন একটি রূপে ফুটিয়ে তুলতেই এই কনসেপ্টের উৎপত্তি। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকার পর নতুন করে যখন ব্যবসা চাঙা হচ্ছে, এমন সময় বেশিরভাগ পণ্যের দাম বাড়লেও বাইক স্টিকারের দাম খুব একটা বাড়তে দেখা যায়নি। যে কারণে একজন মোটরবাইক প্রেমীর কাছে স্টিকারে নিজের বাইককে মোড়ানোয় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে না। সর্বোপরি তরুণ বাইকারদের পছন্দের শীর্ষে স্টিকার থাকায় এর মধ্যে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ভ্যারিয়েশন, যোগ হচ্ছে নতুন ডিজাইন ও নতুন ফিচার।

পুরান ঢাকার বংশালসহ বাংলামটর এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাইক স্টিকার মোডিফিকেশনের ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাইকারদেরকে অনুপ্রাণিত করে নতুন বাইক কিনেই টিকারে মোড়াতে। স্টিকারের মূল্য একদম ছোট সাইজ থেকে শুরু করে পুরো বাইক ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে। বিভিন্ন কোম্পানির লোগো কিংবা সতর্কীকরণ চিহ্ন সংবলিত স্টিকারগুলো ২০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। গোটা বাইক স্টিকারে মোড়াতে খরচ হতে পারে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।