নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীর ভোট করে জেল খেটেও নৌকা চান মেয়র তোফাজ্জল

বিশেষ প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:২৩ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার

দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন।

দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন।

গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন। শুধু কি তাই, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে গিয়ে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন করায় সাত দিনের জেলও খেটেছেন। নৌকার বিরোধীতা করার পরও তিনি এবার নৌকার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে আছেন। কেন্দ্রে গিয়ে তদবিরে ব্যস্ত আছেন।

তবে স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে নালিশ করেছেন। তাকে মনোনয়ন না দিতেও অনুরোধ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গতবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন তিনি। দলীয় প্রার্থীকে হারাতে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে জেতাতে নানা অনিয়মের আশ্রয়ও নিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দায়ে কারাদন্ডভোগ করেছেন তোফাজ্জল হোসেন।

দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং নেতাকর্মী-সমর্থকদেরকে অবমূল্যায়ন করার কারনে তিনি এখন অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তোফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্বাচন করতে গিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য তাকে ভ্রাম্যমান আদালত সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে। এছাড়াও তিনি ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মরহুম মাহবুব জামান ভুলুর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন।

দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করায় রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান এবার তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত ডিও পাঠিয়েছেন। এতে সাংসদ মনসুর রহমান লিখেছেন, তোফাজ্জল হোসেনকে দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা চায়না। তোফাজ্জল হোসেন শারীরিকভাবে অক্ষম। অন্যর সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। ২০১৯ সালের ১০ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করতে গিয়ে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন করে তিনি সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেন। এরফলে দলীয় প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু পরাজিত হন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দলীয় নেতাদের অনুরোধেই উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু প্রশাসন অন্যায়ভাবে আমাকে জেল দেয়। তিনি আরো বলেন, এমপি আমাকে পছন্দ করেনা, তাই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগে কাজ হবে না। আমি মনোনয়ন পেলে আবারো বিজয়ী হবো।

এসব বিষয়ে সাংসদ ডা. মনসুর রহমান বলেন, নির্বাচনে বারবার দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করায় তোফাজ্জল হোসেন অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন। তাকে কোনভাবেই বিজয়ী করা সম্ভব নয়। সে শারীরিকভাবেও অক্ষম। চলাফেরা করতে পারেন না। তাকে পরিবর্তন করে তুলনামূলক তরুণ কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিজয়ী করা সহজ হবে।