পরিত্যাক্ত দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে স্কুল ভবন বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫২ পিএম, ২৯ জুন ২০২০ সোমবার

রাজশাহীর বাঘায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ভবন মাত্র ১লক্ষ ৮২হাজার ১৩৭ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

১৭ বছর আগে এলজিইডি থেকে ৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই স্কুল ভবন। যার ভিত্তি প্রস্থর ছিল দ্বিতল ভবনের। এত কম সময়ে ভবনটি কিভাবে পরিত্যাক্ত দেখিয়ে অল্প টাকায় নিলামে বিক্রি করা হলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার চকছাতারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৯ সালে স্থাপিত হয়। জমির পরিমান ১বিঘা। ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে রাজশাহী জেলা এলজিইডির বাস্তবায়নে তিনটি ক্লাস রুম বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্কুল ভবন পরিত্যক্ত দেখিয়ে ১৫ জুন নিলাম ডাকে বিক্রি করা হয়। ৫০ হাজার টাকার বিডি জমা দিয়ে ২২ জন ডাককারি ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হন ।

কর্তৃপক্ষ ওই ভবনটির সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা। ৫% আয়কর ও ১৫ % ভ্যাটসহ ২ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকায় ভবনটি কিনেছেন আলতাফ হোসেন খান। ভবন অপসারণ বাবদ ৭৭ হাজার ৬৩ টাকা বাদ দিয়ে মাত্র ১লক্ষ ৮২হাজার ১৩৭ টাকা মূল্য বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি কিভাবে এত অল্প টাকায় বিক্রি হলো তা নিয়ে ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে ১৪ জুন তাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। গত ২২জুন ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ভবন নির্মানের অনুমতি পাওয়ার পর, আগের ভবনটি বিক্রির টেন্ডার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয় বর্তমানে শিক্ষক আছে ৪ জন আর শিক্ষার্থী ১৪৫ জন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাজতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবিএম সানোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আরেকটি নতুন ভবন নির্মানের অনুমতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি। ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে নির্মিত সেই ভবন ভেঙ্গে এবার সেখানেই চার তলার ভিত্তি প্রস্তর করে একতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটির শ্রেণী কক্ষের সংখ্যা বেড়ে হবে ৪টি। স্কুল ভবনের পাশে আরেকটি ভবন নির্মান করা হলে খেলা ধুলার মাঠ থাকবে না। ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে ভবনের যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার জানান, নিয়ম মেনেই ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। ভবনটি ভেঙ্গে নিলে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।

ইউএনও জানান, ভবন নিলামে কোনো অনিয়ম হয়নি। এদিকে স্থানীয়দের কেই কেউ বলছেন, আগের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি। তাই ভবনটি রেখেই নতুন ভবন নির্মান করা হলে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পাঠদান করতে পারবে। এতে শ্রেণি কক্ষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। একই জায়গায় ভবন করা হলে আগের মতোই শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকবে।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রুহুল আমি বলেন, আগের জায়গায় ভবনটি করা হলে এলাকার লোকজনের দুই ঈদে নামাজ পড়াসহ মৃত ব্যক্তিদের জানাযা করার সুবিধা পাওয়া যাবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় স্কুলের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে টেন্ডার দেয়া হয়েছে।

স/মা