পিকে হালদার ও দুই বধু এক স্বামী

পার্থ ঘোষ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:১২ পিএম, ১ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার

পার্থ ঘোষ। ফাইল ছবি

পার্থ ঘোষ। ফাইল ছবি

প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না অভিনিত বহুল আলোচিত সিনেমা এবং সেই সাথে ব্যবসা সফল “দুই বধু এক স্বামী” দেখেছিলেন বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা যেখানে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মান্না এবং ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তৎকালীন ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী দুই চিত্র নায়িকা শাবনূর ও মৌসুমীর একই সিনেমায় অভিনয়। মান্না ছিল সবেচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক এবং মৌসুমী ও শাবনূর ছিল নায়িকাদের মধ্যে জননন্দিত নায়িকা। সুতারাং সিনেমা বক্স অফিস হিট।

বর্তমান সময়ে দেশে সর্বাধিক আলোচিত বিষয় পিকে হালদারের কেলেঙ্কারী। পিকে হালদার কেলেঙ্কারীর বিষয় এবং “দুই বধু এক স্বামী” সিনেমার নামকরণের মিল রয়েছে। নায়ক মান্নার ভূমিকায় পিকে হালদার এবং শাবনূর ও মৌসুমীর ভূমিকায় যথাক্রমে নাহিদা রূনাই ও অবন্তিকা বড়াল। অতীতে প্রেমিক-প্রেমিকাকে ফুল, বই, ডায়েরী উপহার দিত। সময়ের বিবর্তনে মোবাইল ফোন, গাড়ী ও বাড়ী ইত্যাদি। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে পিকে হালদার তার দুই প্রেমিকাকে উপহার দেন লিজিং কোম্পানি।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার তার দুই প্রেমিকা নাহিদা রূনাই ও অবন্তিকা বড়ালকে দুটি লিজিং প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছিলেন।

এ দুটিসহ প্রায় ৩০ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লুট করে পিকে হালদার চক্র। অবন্তিকা বড়াল ও নাহিদা রূনাই কে নিয়ে ভিন্ন-ভিন্ন সময়ে প্রায় ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন। পিকে হালদারের কেলেঙ্কারীর নেপথ্যে রয়েছে রোমান্টিক ঘরনার ত্রিভুজ প্রেম এবং উচ্চভিলাষ।

জনশ্রুতি আছে, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে এমডি থাকাকালে পিকে হালদার প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন নাহিদা রূনাইকে।

সদ্য ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখা-পড়া শেষ করে রিলায়েন্সে ট্রেইনি অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নাহিদা রূনাই। রূপ ও যৌবনের বায়বীয় প্রবাহে নতুন অফিসার হয়েও এমডির সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রণয়ঘটিত লেনদেন। বিপরীত মেরুতে থাকা পিকে হালদারের কাছের আত্মীয় অবন্তিকা রিলায়েন্সে শুরুতে টেলিফোন অপারেটর পদে চাকরি নেন। তিনিও পিকের প্রেমের খেলায় মত্ত হয়ে উঠেন। পিকে হালদার যেমন ঋণ আত্মসাৎ এ দক্ষ তেমনি দুই তরুণীর সাথে প্রেমের ময়দানে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়।

গুলশান- বনানীর অভিজাত ক্লাবে রূনাই ও অবন্তিকাকে নিয়ে পিকের অবাধ যাতায়াত ও ফুর্তির ক্লান্তি বিহীন আবেগ প্রণয়ের হাইব্রিডাইজেশন খেলা। এক সপ্তাহে রূনাইকে নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া এবং পরের সপ্তাহে অবন্তিকাকে নিয়ে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যেতেন। এ যেন “দুই বধু এক স্বামী” সিনেমা।

পিকে হালদার সিঙ্গাপুর, ভারত ও কানাডায় পাচার করেন ৪০০ কোটি টাকার বেশী।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, কানাডার টরেন্টোতে পিকে রয়েছে মার্কেট ও বিলাস বহুল বাড়ী। অর্থ, সামাজিক অবক্ষয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলোর রম ব্যর্থতা দৃষ্টিগোচর হয়েছে পিকে হালদার কেলেঙ্কারীতে।

সামাজিক নৈতিকতার অবক্ষয়ের ফলে অবন্তিকা বড়াল ও নাহিদা রূনাই এবং আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির ফলেই ভয়ংকর প্রতারক পিকে হালদারদের সৃষ্টি হয়।

লেখক: ফ্রিল্যান্স লেখক, ধানমন্ডি, ঢাকা।