পুঠিয়ায় নির্মাণাধীন ‘শেখ রাসেল শিশু পার্কে’র কাজে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১২:৫৫ এএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০৯ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী দিনের ভবিষৎ শিশুদের জ্ঞানভিত্তিক মেধা বিকাশ ও আধুনিক নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার ধারাবাহিকতায় হাজারো কার্যক্রমের মাঝে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য নানামুখি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে শিশুদের জন্য ডিজিটাল পাঠ্যক্রম প্রণয়নসহ বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জনে সারাদেশ ব্যাপী ‘শেখ রাসেল’ শিশু পার্কের কার্যক্রম অন্যতম।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রস্তাবিত ‘শেখ রাসেল শিশু পার্কের কাজও শুরু হয়েছে। তবে সেই কাজটি চলছে দায়সারাভাবে ধীর গতিতে। এই কাজের শুরুতেই ঠিকাদারের সাথে সখ্যতা ও নানা দুনীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকায় পার্কের কাজ নিয়ে পুঠিয়ার সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন বিস্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখে স্থানীয় সংসদ ডা. মনসুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রস্তাবিত পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই কাজের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সংসদের নির্দেশে বিশেষ বরাদ্দ টিআর কাবিখার মোট ৬ লক্ষ টাকাসহ টুরিজম বোর্ড থেকে ২৫ লক্ষ টাকার নতুনভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে শুরুতেই ৬ লক্ষ টাকার কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে! কাজের শুরুতেই অনেক গলদ। পার্কের সঠিক বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্কের কাজের জন্য উপজেলা প্রশাসন পছন্দমত কথিত ঠিকাদার দিয়ে প্রথম থেকেই কাজ করাচ্ছে। এই ঠিকাদারের বিষয়েও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও উপজেলাবাসীর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। রাজাকারের নাতি হওয়া সত্ত্বেও পৌরসভার ৮ নম্বর কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান রাজু খোলস পরিবর্তন করে পুঠিয়া উপজেলার সরকারি কাজগুলো বাগিয়ে নিচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ও পুঠিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তাজুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় মোখলেছুর রহমান রাজুর দাদা আবদুল মজিদ ছিলেন পুঠিয়া থানা পিস কমিটির সেক্রেটারি। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল তার নেতৃত্বে মটন শাহ, ডা. শিবনাথ দাস, প্রদীপ শাহ, অলক দত্ত, কানু মোহন্ত, বিশ্বজিৎ দাস, গোপেন দাস, সুরেন মিস্ত্রি, নাসির উদ্দিনসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা এবং হিন্দুবাড়িতে লুটপাট করেছে। তারা এখন থানা আ’লীগের মূল জায়গায়। এ লজ্জা রাখবো কোথায়!

গত ১২ আগস্ট পার্কের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের ঢুকতেই অবৈধভাবে বিদুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। মরা গাছের চারপাশে পাকা করে বাঁধা হয়েছে যা পরবর্তীতে কেটে ফেলা হবে। স্থানীয়দের মতে, যা অর্থ আত্মসাতের নতুন ফন্দি।

এছাড়াও নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এডিবির ইউনিয়ন পরিষদের নারীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের পারিশ্রমিক দিচ্ছে এডিবি। কিন্তু’ প্রতিদিনের কাজে শ্রমিকদের হিসেব দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। দীঘির পাশে কোন রিটার্নিং ওয়াল না করেই আম গাছ ঘিরে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মঞ্চ করা হয়েছে। মঞ্চটিতে ভেতরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরাতন টিন দিয়ে ঘিরে দায়সারা কাজ করায় গরু ছাগল এসে খেয়ে ফেলায় শোভাবর্ধন গাছগুলো মরতে বসেছে। এদিকে পার্কের চারপাশে সরকারিভাবে মোট ১২ টি সোলার বসানো হয়েছে। প্রস্তাবিত পার্কটি মূল কাঠামো ২.৬৯ একর জমি নিয়ে শুরু করলেও স্থানীয় কিছু ভূমি জটিলতা নিরসন হলে মোট ৩ একর জমির ওপরে নির্মিত হবে পার্কটি।

পার্কের কর্মরত শ্রমিক শফিকুল ও মোতালেব জানান, শুরু থেকেই কাজটি কাউন্সিলর রাজুর নির্দেশনায় করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী কেন ব্যবহার করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নে বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মত কাজ হচ্ছে আমাদের কিছুই করার নেই।

পার্ক সংলগ্ন বাসিন্দা ব্যবসায়ী শুভাশ দত্ত জানান, পার্কের কাজের শুরু থেকেই নি¤œমানের ইট দিয়ে কাজ হচ্ছে। এখনো কিছু পুরাতন ইট ও খোঁয়া পড়ে আছে। পার্কটিতে শিশুদের সৃজনশীল পরিবেশ ও আধুনিকতা না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো দুই জন জানান, অবৈধভাবে বিদুৎ সংযোগে দুর্ঘটনাসহ অরক্ষিত গরু-ছাগলে চরণ ভূমিতে পার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা জানান, শুরুতেই যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তবে পরবর্তীতে তৈরিকৃত জিনিসগুলো টেকসই হবে না!

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও ওলিউজ্জামান জানান, পার্কটি একদম শূন্য থেকে শুরু করা হয়েছে। বিশেষ বরাদ্দের ৬ লক্ষ টাকার কাজ চলমান আর ট্যুরিজোম বোর্ডের ২৫ লক্ষ টাকার কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে হবে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কেন কাজ করা হচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু জানান, এই পাকর্টি নির্মিত হলে তরুণ ও শিশুদের মেধা বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিনোদনমুখী শিক্ষা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল জনক। পার্কটি আধুনিক যুগোপযোগী হোক তা আমরা প্রত্যাশা করি।

স/এমএস