পুঠিয়ায় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চলছে পুকুর খননের হিড়িক (ভিডিও)

আরিফুল রুবেল, পুঠিয়া

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৪৫ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার | আপডেট: ০৭:৫১ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার

‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’ এমন সরকারি নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমিতে আবারও শুরু হয়েছে পুকুর খনন। এতে ক্রমেই কমছে চাষের জমি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।

এক শ্রেণীর পুকুর ব্যবসায়ী ও অসাধু ইটভাটা মালিকেরা স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইটভাটার মালিক ও স্কেবেটর মালিক তাদের প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করতে দালালের মাধ্যমে লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এতে জমির মালিকেরা পুকুর খনন করতে খরচের পরির্বতে অতিরিক্ত টাকা পাচ্ছেন, তাতে কৃষকেরা না বুঝেই তাদের ফসলি জমি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণীর প্রভাবশালী পুকুর ও ইটভাটার ব্যবসায়ীগন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউপি এলাকায় সাতবাড়িয়ার বিলে ১১ জন কৃষকের ৫২ বিঘা ফসলি জমিতে পুকুর খনন কাজ শুরু হয়েছে। একই ইউনিয়নের জগোপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী তৌহিদুল এই বিশাল পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঐ এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা এ বছর শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ টি পুকুর খনন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এতে করে এই এলাকার বিভিন্ন ফসলের প্রায় সাত শত বিঘা জমি কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাতবাড়িয়া এলাকায় ৫২ বিঘার একটি বড় দীঘি খনন কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলো পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে চুক্তি হলে খনন শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করতে গত দু’বছর আগে জনস্বার্থে হাইকোর্টে ২৪৭৬/২০১৯ নম্বরে একটি রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ১০/০৩/২০১৯ ইং কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন বা পুকুর খনন না করতে আদেশ দেন। পাশাপাশি কোথাও পুকুর খনন কাজ চললে উপজেলা প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর পুকুর খনন বন্ধে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন গত- ২০১৯ইং সালের ২৮ মার্চ একটি স্বারকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। যার নং ০৫.৪৩.৮১৮২.০০০.১৬.০১৫.১৮-৩৬৫(১০)। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে আবারও পুকুর খনন কাজ শুরু করছেন এলাকার প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে জানতে (ইউএনও) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছের সহিত মোবাইলে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিনিধিকে কোন কথা না বলে হুমকি দিয়ে বাজে ব্যবহার করে কথা বলেন।