পুঠিয়া আল-মাহদী ক্লিনিকে আবারো প্রসূতীর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা

আরিফুল রুবেল, পুঠিয়া

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:৩১ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০ বুধবার | আপডেট: ০৯:৪৯ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০ বুধবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজশাহীর পুঠিয়া সদরে অবস্থিত বে-সরকারী হাসপাতাল আল-মাহদী ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে সাবানা বেগম (২৪) নামের এক প্রসূতীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত সাবানা বেগম দুর্গাপুর উপজেলার পালসা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিজার করার সময় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। 

এ ঘটনায় ঐ ক্লিনিকের মালিক ডা. মুনসুর রহমানকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ।

এছাড়াও ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে এবং ক্লিনিকের সকল মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

প্রসুতির স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা অনুভব করায় আজ বিকেল ৩টার দিকে এই ক্লিনিকে ভর্তি করি। ভর্তির পর ক্লিনিক মালিক আমাকে বলেন, বাচ্চার অবস্থা খারাপ জরুরী সিজার করাতে হবে। স্ত্রী ও আগত সন্তানের কথা চিন্তা করে আমি সিজার করাতে রাজি হই। ক্লিনিক মালিক সন্ধ্যার ৪টার দিকে তাকে সিজার কারানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ক্লিনিক মালিক মুনসুর রহমান আমাদের একটা ছেলে হয়েছে তবে তার মায়ের অবস্থা ভালো নয় বলে জানান। এর কিছুক্ষন পর তিনি বলেন আমার স্ত্রী মারা গেছেন।

এ বিষয়ে আল মাহাদী ক্লিনিকের মালিক মুনসুর রহমান বলেন, ডা. শাহনেওয়াজ হক ফয়সাল এই অপারেশন করেছেন। ঠিক কি কারণে রোগির মৃত্যু ঘটেছে তা দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রসুতি মৃত্যুর খবর পেয়ে থানা পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসেছেন। এই ক্লিনিকে আগেও অপচিকিৎসায় কয়েকজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আসলে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৯ আগষ্ট উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের আলম সর্দারের স্ত্রী পান্না বেগমকে (৩০) সিজার করতে গিয়ে অপারেশন থিয়েটারে মারা যায়। এ ঘটনায় ওই ক্লিনিক সীলগালা করে দেন উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন আইনী জটিলতা কাটিয়ে চলতি বছরের শুরুতে বন্ধ ক্লিনিকটি পুনরায় চালু করা হয়।

স/এমএস