বঙ্গবন্ধুর লাশ গোসল-জানাজা ছাড়াই মাটিচাপা দিতে চেয়েছিলো!

সোহেল সানি

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০১:২৮ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২০ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আর্মিরা হেলিকপ্টার করে বাক্স বন্দী করে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর লাশ মাটি চাপা দিয়েই দ্রুত কেটে পড়তে চেয়েছিলো। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ গোসল, জানাজা ছাড়া কবরস্থ করার পরিকল্পনায় সায় দিলেন না, মৌলভী আব্দুল হালিম। পবিত্র কোরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা দিয়ে আর্মিদের বুঝিয়ে ছিলেন তিনি যে, কোন মুসলমানের গোসল জানাজা ছাড়া কবর দেয়া যায় না। মেজর ও ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন ইংরেজিতে মৌলভী আব্দুল হালিমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করলো। খুব বড় শিক্ষিত আলেম ছিলেন মৌলভী হালিম। তিনিও ইংরেজির জবাব ইংরেজিতে দিলে আর্মি অফিসারদ্বয় নতজানু হয়ে বলেছিলেন খুব দ্রুততম সময়ে দাফন-কাফন ও জানাজা সম্পন্ন করতে। আব্দুল মান্নান শেখ বঙ্গবন্ধুর লাশ মৌলভীর শরিয়তসম্মতভাবে গোসল করান।

মাটি কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন হালিম ও আইয়ুব মিস্ত্রি। কারণ পোষ্ট মাস্টারের নির্দেশ একটা কবর খুঁড়তে হবে। নিহত রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর লাশ তাঁর বাড়িতে নামানো হলো হেলিকপ্টার থেকে। আর্মিদের অর্ডার। হালিম ও আইয়ুব মিস্ত্রি বাক্স খুললো শাবল দিয়ে। জাতির পিতার লাশকে গোসল দেয়ার জন্য বালতি ও বদনা দিয়ে বাড়ির পুকুর দিয়েই পানি আনা হলো। গায়ে মাখুনি সাবান বাড়িতে থাকলেও কোন লোক ছিলো না, আর তাই সাবানও পাওয়া গেলো না। টুঙ্গিপাড়া বাজার থেকে ৫৭০ সাবান আনা হলো। আর কাফনের কাপর আনা হলো স্থানীয় রেডক্রস দিয়ে।

আর্মিরা এত সব করতে দিতে রাজি ছিলো না। গোসল করাতে গিয়ে মৌলভী হালিম ও শেখ মান্নান দেখতে পান বঙ্গবন্ধুর বুকে চব্বিশটি গুলি। ডান হাতের তালুতে একটি। বাঁ পায়ের গোড়ার দিকে আরেকটি। দুই রানেও একটি করে গুলি দেখা যায়।

গোসলের আগে বঙ্গবন্ধুর গায়ের পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, প্লেকার্ড চেক লুঙ্গি, পাঞ্জাবির পকেটে থাকা রুমাল, তামাকের কৌটা, পাইপ ছাড়াও একটি তোয়ালে ও একটি চাদরও পাওয়া যায়। এসমস্ত জিনিস ধুয়ে যত্ন করে রেখে দেন আব্দুল মান্নান শেখ। সে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আত্মীয়। এগুলো খালে ধোয়ার সময় গেঞ্জিটা হারিয়ে যায়।

সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। এসব জিনিসপত্র জন্য মান্নান শেখকে পুলিশ ধরে নিয়ে নিগৃহীত করে। হেলিকপ্টার থেকে থানায় লাশবহনকৃত বাক্স নামানোর পর শেখ রুস্তম আলী, বাবর শেখ, কাজী আতিয়ার, ইলিয়াস সরদার, তোতা মিয়া মুনশী, জর্জিস মুন্সি, ইদ্রীস কাজী ও শেখ রজব আলী কাঁধে করে বঙ্গবন্ধুর লাশ তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায়। খোঁড়ার কাজে লিপ্ত ছিলেন মান্নান শেখ ছাড়াও শেখ রজব আলী, সোহরাব শেখ, এনায়েত মিয়া প্রমুখ।

গোসল করানোর কাজে ছিলেন মৌলভী হালিম, মান্নান শেখ, নুরুল হক গেদু মিয়া, কেরামত আলী, ইমামুদ্দিন গাজী প্রমুখ। কবরে লাশ নামিয়ে যাঁরা বঙ্গবন্ধুকে মাটি দেয় তাঁরা হলেন কাশেম হাজী, নজীর মোল্লা, ইমান গাজী ও মান্নান শেখসহ আরো সাত-আট জন।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।