বাংলাদেশকেও আপাতত টিকা নয়: ভারতীয় মুখপাত্র

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:৪৬ এএম, ৫ জুন ২০২১ শনিবার

বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ ভারতে তৈরি অক্সফোর্ডের কভিড টিকার দ্বিতীয় ডোজের প্রতীক্ষায় থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল আপাতত তারা টিকা দিতে পারছে না। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মন্তব্য করেছে বলে জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা।

নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন যা পরিস্থিতি তাতে কোনোভাবেই অন্য কোনো দেশকে কভিডের টিকা পাঠাতে পারবে না ভারত। বরং তারা এখন আমদানির জন্যই ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচীকে বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, প্রতিষেধক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরের দেশগুলোতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতই সবার আগে ছিল। কিন্তু আমরা এখন বাইরে থেকে আমদানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিষেধক রপ্তানির করার প্রশ্ন ওঠাই ঠিক নয়। আমরা এখন ঘরোয়া প্রতিষেধক তৈরির কর্মসূচিকেই মূল লক্ষ্যবস্তু করেছি।`

আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, খুবই প্রাঞ্জল করে মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিষেধক রপ্তানির প্রশ্ন কেন উঠছে। তার কারণ ভারতে যেভাবে টিকাদান সম্ভব হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তার ধারের কাছ দিয়েও যেতে পারেনি মোদি সরকার। কিন্তু সেই সঙ্গে এই বিতর্কও উঠছে যে, ভারত সরকার কেন নিজে থেকেই বারবার বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বকে টিকা নিয়ে আশ্বস্ত করেছিল। এপ্রিলের শুরুর দিকে ভারতে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারতের যেটুকু সম্পদ তা গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াতেই বিশ্বাস করে তার সরকার।

 
 

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ডের টিকা নেওয়া প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ বাংলাদেশি দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। অন্তত এই ডোজগুলো যাতে ভারত দেয় তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ মহল থেকে দেনদরবার করা হচ্ছিল। ভারত সরকার শুক্রবার কার্যত সেই চেষ্টায় পানি ঢেলে দিল।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এবং বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বেশ কিছুদিন আগেই ঘরোয়াভাবে ঢাকাকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ যেন টিকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে শুরু করে। কারণ অন্য দেশকে দেওয়ার মতো বাড়তি টিকা ভারতের হাতে নেই।