বাগাতিপাড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১০:৩৬ এএম, ২৬ জুলাই ২০২০ রবিবার

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫নং ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নিজের জমির গাছ বিক্রির টাকার একটি অংশ চাঁদা হিসেবে দাবী এবং চাঁদা না দেয়ায় গাছ কাটতে বাধা প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শনিবার বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি করেন একই ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেন। তিনি ওই গ্রামের মিনহাজ মিয়ার ছেলে।

লিখিত অভিযোগে শাহাদত হোসেন বলেন, সাংসারিক কাজে অর্থের প্রয়োজনে তিনি নিজের ভোগ্য জমির ২৪ টি বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ বিক্রি করার উদ্যোগ নেন। সেসময় গাছগুলি ইউনিয়ন পরিষদের দাবী করে চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বাধা প্রদান করেন।

এ ঘটনায় গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে ইউএনও’র কাছে শাহাদত হোসেন আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের পর রাস্তার পাশের ওই গাছগুলোতে সরকারের কোন দাবী-দাওয়া নেই মর্মে কাটার অনুমতি দেন।

পরবর্তিতে তিনি ওই গাছগুলো কাটতে গেলে চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন শাহাদতের নিকট থেকে গাছ বিক্রির ৬০ ভাগ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না চাওয়ায় অভিযুক্তগণ গাছ কাটতে বাধা ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অভিযুক্তগণ তার ভোগ দখলীয় ভূমির মাঝ দিয়ে জোর পূর্বক রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করায় নাটোর আদালতে তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৯/২০২০। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে আদালত মোকদ্দমা চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তপশীলে রাস্তা নির্মাণ করিতে না পারে সেজন্যে অভিযুক্তদেরকে নির্দেশ প্রদান করেন। এতে বিবাদীগন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তিনিসহ তার পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতিসহ প্রাণ নাশেরও হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকারী রাস্তার পাশের গাছগুলো শাহাদত বিক্রি করায় বিষয়টি তিনি ইউএনকে জানিয়েছেন মাত্র। তবে কোন প্রকার অর্থ দাবীর বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে মডেল থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে দেখছেন। তবে গাছগুলো বনবিভাগের সাথে সমিতির গাছ বলে প্রাথমিকভাবে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

স/মা