মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:২৭ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০ সোমবার

রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ড এর আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তরা দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপ কামনা করেন। দোষীদের শাস্তি না হলে আন্দোলনেরও ডাক দেন তারা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে মুক্তিযোদ্ধারাই স্বাধীন করেছেন। অথচ এখন এই স্বাধীন বাংলায় মুক্তিযোদ্ধরা অবহেলিত হচ্ছে। কিছু মানুষ আছে যারা মুক্তযোদ্ধাদের যোগ্য সম্মান দিচ্ছে না। তারা দেশ এবং সমাজের শক্র। এসব শক্রদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধরা আবারও এক হয়ে লড়বে।

 

তারা বলেন, গত কয়েক মাসে রাজশাহীতেই মুক্তযোদ্ধারা বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। কিছুদিন আগেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মরদেহ আটকে রেখে তাকে হেনস্থা করা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের বোনের লাশ নিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপর একের পর এক হামলা হচ্ছে। অথচ পুলিশ-প্রশাসন কোন কিছুই করছে না। তাই আমরা এর সঠিক বিচার চাই। সঠিক বিচার না হলে আমরা মুক্তিযোদ্ধরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান।

পরিচালনা করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ভগবানগোলা রিকুইটমেন্ট ক্যাম্পের ইনচার্জ রুহুল আমিন প্রমানিক।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আাজাদ, ন্যাশনাল ফ্রিডম ফাইটার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রবিউল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের মহানগর সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর রাজশাহীর পবা উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের মেজ বোন মারা যান। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে দেলোয়াবাড়ির একটি গোরস্থানে লাশ দাফন করতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই দুর্বৃত্তরা তাদের উপর হামলা চালায়। এরপর রাত ৮টার দিকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা করতে যাওয়া হয়। কিন্তু রাত ১১টার দিকে হামলাকারীরাই উল্টো মুক্তযোদ্ধার পরিবারের বিপক্ষে মামলা করতে যায়। কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ দুর্বৃত্তদের অভিযোগেই আগেই মামলা নেয় বলে অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান।