যে ৫ কারণে নির্বাচনে জিতেছেন জো বাইডেন

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪০ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০২০ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সব উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন জো বাইডেন। কয়েক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি আর দেশজুড়ে দীর্ঘ সামাজিক সহিংসতার মতো ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন জো বাইডেন।

যদিও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রায় ৫০ বছর ধরে কাজ করছেন জো বাইডেন। তারপরও প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার দীর্ঘদিনের। তৃতীয়বারের চেষ্টায় সেই লক্ষ্যে সফল হয়েছেন তিনি।  বিবিসির প্রতিবেদনে এমন পাঁচ কারণ উঠে এসছে যা বাইডেনকে জয়ী হতে সাহায্য করেছে।

কোভিড: জো বাইডেনের জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে কোভিড। করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। একইসাথে বদলে দিয়েছে মার্কিন মানুষের জীবন ও রাজনীতি। উইসকনসিনে নির্বাচনী র‍্যালিতে কোভিড-১৯ সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ফেক নিউজে সবকিছুই কোভিড, কোভিড, কোভিড, কোভিড। মহামারি সম্পর্কে তার অবস্থান এবং যেভাবে তিনি বিষয়টি সামলেছেন সেটি শেষ পর্যন্ত তার বিপক্ষেই গেছে।

অন্যদিকে গত মাসে করা এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, কোভিড নিয়ে বাইডেনের অবস্থান তাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। বৈশ্বিক মহামারিতে যে ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা কৌশলকে বাধাগ্রস্ত করেছে। মহামারি ও এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়শই যেভাবে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছেন, বিজ্ঞানকে প্রশ্ন করেছেন, একদম হুট করে এলোমেলোভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ  করেছেন এই বিষয়গুলো জো বাইডেন ক্যাম্প সফলভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে কাজে লাগিয়েছে।

হিসেব কষে ধীরগতির প্রচারণা: দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ভুল বক্তব্য ও অসমীচীন কাজের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন জো বাইডেন। এসব ভুল  প্রায়ই তাকে বিপদগ্রস্ত করেছে। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে এমন ভুল তার হারের কারণ ছিল। ২০০৭ সালে আবার যখন তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন সেবার তার তেমন একটা সম্ভাবনাই ছিল না। তবে তৃতীয়বার নির্বাচনে বক্তব্য দেবার সময় তিনি সতর্ক থেকেছেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার লাগামহীন অসামঞ্জস্যপূর্ণ নানা বক্তব্যের কারণে নিয়মিত খবরের উৎস ছিলেন। 

এছাড়া বৈশ্বিক মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট, জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময়ের সহিংস বিক্ষোভ -এরকম জাতীয় পর্যায়ের বড় ঘটনার দিকে সমাজের মানুষের মনোযোগ বেশি ছিল। এর বাইরে এবার বাইডেন ক্যাম্প খুব হিসেব কষে এগিয়েছে। বাইডেনকে যতটা সম্ভব কম জনসম্মুখে আসতে দেখা গেছে। প্রচারণার গতি এমন ছিল যাতে প্রার্থী ক্লান্তি থেকে অসাবধানতাবশত কিছু করে না বসেন। বাইডেন ক্যাম্প বরং ট্রাম্পকে তার মুখ খোলার সুযোগ দিয়েছে যা শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে।

আর যেই হোক ট্রাম্প নয়:  নির্বাচনের দিনটির এক সপ্তাহ আগে জো বাইডেন ক্যাম্প তাদের সর্বশেষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করে। গত বছর জো বাইডেন প্রার্থী হিসেবে যখন মনোনীত হন এবং যেদিন তার প্রচারণা শুরু করেন সেসময়কার বক্তব্যের সাথে এই বিজ্ঞাপনের বক্তব্যে বেশ লক্ষণীয় সাদৃশ্য ছিল। 

এই নির্বাচনকে `যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার যুদ্ধ` হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরকে বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলার সময়কাল বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্পের সময় যে মেরুকরণ হয়েছে, যে ধরনের বিতর্কের জন্ম তিনি দিয়েছেন মার্কিন জনগণ তা থেকে মুক্তি চেয়েছে।তারা শান্ত ও অবিচল একজন নেতা চেয়েছেন। ভোটারদের অনেকেই বলেছেন তারা ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্পের আচরণে রীতিমতো বীতশ্রদ্ধ। বাইডেন ক্যাম্প এ সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তারা এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে এই নির্বাচন যেন দুই প্রার্থীর মধ্যে যোগ্য একজনকে বেছে নেবার নির্বাচন নয় বরং এটি যেন ট্রাম্প সম্পর্কে একটি গণভোটের মত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জো বাইডেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এমন বার্তেও দেয়া হয়েছে ভোটারদের।

মধ্যপন্থী অবস্থান: প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবার লড়াইয়ে জো বাইডেনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি বামপন্থী হিসেবে পরিচিত। আর একজন ছিলেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। যার ক্যাম্পেইনে বেশ ভালো অর্থের যোগান ছিল। এই দুজনের যেকোনো সভায় রক গানের কনসার্টের মতো মানুষ জড়ো হতো। কিন্তু জো বাইডেন উদারপন্থীদের চাপের মুখেও মধ্যপন্থী অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি সরকারি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা, বিনামূল্যে কলেজ শিক্ষা ও ধনীদের জন্য বেশি কর আরোপ করার নীতিগুলোতে সমর্থন দেননি। এর ফলে তিনি মধ্যপন্থী ও অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের কাছে টানতে পেরেছেন। কমালা হ্যারিসকে রানিং মেট হিসেবে বেছে নেবার সিদ্ধান্তে এটি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ইস্যু দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকেও আকর্ষণ করতে পেরেছেন।

বেশি অর্থ, কম সমস্যা : এই বছরের শুরুতে জো বাইডেনের প্রচারণা তহবিল প্রায় শূন্য ছিল বলা যায়। ট্রাম্পের বিপক্ষে তার সীমাবদ্ধতা ছিল এটি। ট্রাম্পের প্রচারণা ছিল শত কোটি ডলারের । কিন্তু এপ্রিল মাসে তহবিল গঠনে জোরালোভাবে লেগে পড়েন বাইডেন ক্যাম্প। অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের চেয়ে ১৪৪ মিলিয়ন ডলার বেশি ছিল বাইডেনের তহবিলে। এবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে একদম মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারণা অনেক কমিয়ে দিতে হয়েছে। করোনার কারণে মানুষজন অনেক বেশি সময় ঘরে কাটিয়েছে। তাই গণমাধ্যমের প্রতি তাদের মনোযোগ অনেক বেশি ছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বাইডেন। ভোটার আকর্ষণ করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণমাধ্যমে বার্তা দিয়ে গেছেন তিনি। এছাড়া টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকানদের জর্জরিত করেছে বাইডেন ক্যাম্প। অন্যদিকে ট্রাম্পের পদ্ধতিতে ছিল বাড়াবাড়ি রকমের অর্থ অপচয়।

স/এমএস