রাজশাহী নগরীতে সরকারি জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:৩৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

রাজশাহী নগরীর ২২নম্বর ওয়ার্ডের কুমারপাড়া এলাকায় খাস জমি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে দখলবাজরা। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে পদ্মারপাড় মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের এলাকায়।

এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনগণের বসবাসের সুবিধার্থে এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বুধবার স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন দখলবাজ বাঁশ কাঠ পুতে পদ্মারপাড় মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের সামাজিক কাজে ব্যবহৃত এক খন্ড জমি দখলে নিতে চায়।

নাম প্রকশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বুধবার ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রিপনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন দখল নিয়ে এসেছিল। এলাকার মানুষের বাধারমুখে তারা পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরোজমিন এলাকার অব্দুল ওয়াজেদের স্ত্রী নাসিমা বেগম, হামিদা বেগম, জিন্নাতুন বলেন সরকারি এই জায়গার আশেপাশে ৪০-৪৫ বাড়ি গরীব মানুষের বসবাস। বিবাহসহ অন্যান্য সামাজিক উৎসবে এসব গরীব মানুষ কমিউনিটি সেন্টারে যেতে ও ভাড়া করতে পারেন না। এরা সবায় এই ফাঁকা জমিতে অনুষ্ঠান করে থাকে। কেহ মারা গেলে এখানেই রাখা হয়। এলাকার অনেকেই এখানে কাপড় রৌদ্রে শুকায়। আগে অনেক জঙ্গল ও আবর্জনায় ভর্তি ছিল। এখন সবায় মিলে জায়গাটি পরিস্কার রাখার চেষ্টা করছে। ছোট ছেলে-মেয়েরা এখানে খেলাধুলা করে থাকে। হঠাৎ করে বুধবার এই জায়গা দখল নিতে আসে। সবার বাধারমুখে তারা পালিয়ে যায়।

এই জায়গা ফাঁকা রাখতে তারা দাবি করেন। ওই এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে কিশোর রাহাত রহমান বলেন, আমরা গরীব মানুষ। অন্যান্য দিন করি। প্রত্যেক শুক্রবার করে অনেকেই এই জায়গা পরিস্কার করেছে। এই এলাকায় সবারই ছোট ছোট বাড়ি, ছোট ছোট জায়গা, কাপড় শুকানোরও জায়গা নেই। আমরা এখানে খেলাধুলা করি।

২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রিপন, তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জায়গা না, আমি কেন যাব ওখানে? বুধবার ওই ঘটনার সময় রাস্তা দিয়ে যেতে দেখি ওই জমিতে মাপজোক চলছে। পাশাপাশি তর্কাতর্কিও হচ্ছে। তাই দাঁড়িয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছি মাত্র। এর বেশী কিছু না। প্রতিহিংসাবশতঃ তারা আমাকে জড়াচ্ছে।

এ ব্যাপারে ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, তার ওয়ার্ডের গরীব মানুষ ওখানে বাস করেন। ওই জমিতে বিবাহসহ সামাজিক অনুষ্ঠান করে থাকে তারা। এছাড়াও ছোটরা খেলাধুলাসহ কাপড় ও পোশাক শুকানো হয়। খুব শীঘ্রই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পরামর্শ নিয়ে যাতে সবারই সুবিধা ও কল্যাণ হয় সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

স/এমএস