রাবিতে পুকুরের মাটি বিক্রি: তদন্ত কমিটি চায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:০১ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার

প্রায় ২৫ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর খননের শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহবায়ক প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শুক্রবার দুপুরে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম পাড়া শিক্ষকের বাসা সংলগ্ন এলাকায় এবং পূর্ব পাড়ায় শহীদ শামসুজ্জোহা হল ও আইবিএ ভবন সংলগ্ন এলাকায় একটি লেক ও দুইটি পুকুর খননের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও প্রশাসনিক এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিধিবহির্ভূত ভাবে লেক ও পুকুর খননের প্রায় ৫০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুবিধা অসুবিধা, জলাবদ্ধতা এবং বহিরাগত অসামাজিক লোকজনের গমনাগমন বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়নি। এগুলো কৃষি প্রকল্প ও এই প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির অসংবেদনশীলতা, অযোগ্যতা এবং পরিকল্পনা হীনতার প্রমাণ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এসব প্রকল্প থেকে শত শত ট্রাক মাটি বাইরের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ অবৈধভাবে বিক্রির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পুকুর খননের মাটি বাইরে বিক্রির বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে এই প্রকল্পের ফলে পশ্চিমপাড়ায় পয়ঃনিষ্কাশনের কি অসুবিধা হবে তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি। আবাসিক এলাকার শিক্ষক পরিবার সমূহের সম্ভ্রম ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি কেন বিবেচনা করা হয়নি তাও খুঁজে বের করতে হবে। সেই সাথে জরুরি ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

উল্লেখ্য, গতবছর মার্চে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান এই ইজারা পান। তবে শর্তভঙ্গ করে গত ২৭ শে মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাক ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্বে দক্ষিণ জলাশয় লিজ গ্রহিতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও এই নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। সর্বশেষ ২২ এপ্রিল বিষয়টি বন্ধের উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ একটি সভা করেছেন বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা।

তিনি জানান, আগামীকাল ২৪ এপ্রিল ওই ইজারা নেওয়া দুইটি পক্ষের সাথে প্রশাসনের বসার কথা রয়েছে।