রাবি উপাচার্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রীর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৩৮ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৩৯ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার

পেনশনের অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ এনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবাহানসহ ছয়জনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করেছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের স্ত্রী ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ মোমেনা জিনাত।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১ এর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক জয়ন্তী রাণী মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর বিবাদীদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

মামলায় উপাচার্য ব্যতীত অন্য বিবাদীরা হলেন, `রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়` (পক্ষে রেজিস্ট্রার), রাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সভাপতি ও রাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম কবীর এবং স্কুলের বর্তমান অধ্যক্ষ লিসাইয়া মেহ্জবীন।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষের পদ থেকে গতবছরের ৩০জুন পি.আর.এল.এ যান। পরবর্তীতে তিনি রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে পিআরএলএ`র বিষয়টি জানান এবং নতুন অধ্যক্ষের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তিনি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীকে এককালীন অর্থ ও পিআরএলএ ছুটি প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তার অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এর কোনো জবাব পাননি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, পেনশন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির জন্য পরে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু উপাযার্চও কোনো ব্যবস্থা নেননি। `উপায়` না পেয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন বলেও বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন। এছাড়াও বাদী মোমেনা জিনাত উপাচার্যকে পেনশনসহ অন্যান্য পাওনা দিতে আইনী নোটিশ পাঠিয়েও ব্যর্থ হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য ভাতা মিলে ৪৫ লাখ ৬১হাজার ৯৪৫ টাকা পাবেন বলে জানান। এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১ এর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৬/২০২০ (টাকা)। বিবাদীদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন আদালত।

তবে উপাচার্য আব্দুস সোবহান বলেছেন, সাবেক ভিসি মিজানউদ্দিন সিন্ডিকেটে প্রভাব খাটিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে স্কুলটি করেছেন। শিক্ষা জীবনে তৃতীয় বিভাগ থাকার পরও কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজ স্ত্রীকে সহযোগি অধ্যাপকের পদমর্যাদায় বসিয়েছেন। একারনে ইউজিসি পেনশনের অর্থ ছাড় দেয়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান আরো বলেন, শুনেছি মামলা হয়েছে। মামলা হলে সেটি আইনীভাবে সমাধান হবে। মামলার বাদীর দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে যেটি শেখ রাসেল মডেল স্কুল নামে চলছে সেটিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি)আর্থিক অনুমোদন নেই। শিক্ষক মোমনা জীনাতের স্বামী সাবেক উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন ছাড়াই প্রি-নার্সারীকে শেখ রাসেল মডেল স্কুল নাম দেন। পরে সেসময়ের প্রশাসন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছে অনুমোদন চায়। ইউজিসি সরেজমিন পরিদর্শন করে স্কুলটির কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয় তবে ইউজিসি আর্থিক অনুমোদন দেয়নি। ইউজিসি আর্থিক অনুমোদন না দিলে শিক্ষকদের তো বেতনই হওয়ার কথা নয়, সেখানে পেনশন কিভাবে পাবে! নতুন করে শেখ রাসেল স্কুল ভবন তৈরির জন্য একনেকে বাজেট পাশ হয়েছে। যেখানে স্কুল ভবনের নতুন বাজেট হলো সেখানে স্কুল থাকে কি করে! এর আগেও স্কুলটির অনেক শিক্ষক পেনশনের আবেদন করেও পাননি বলে জানান উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান।

জানতে চাইলে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, বেতন প্রদানের যদি অনুমোদন না থাকে তাহলে তিনি (বর্তমান উপাচার্য) এতদিন কর্মরতদের বেতন কেন দিলেন! উনি তো ২০১৭সালে দায়িত্বে এসেছেন। আমি `শেখ রাসেল` নাম দিয়েছি, অপরাধ করেছি। উনি এতদিন সব করলেন। বর্তমান উপাচার্যের সময়ে স্কুল থেকে দু`জন শিক্ষক অবসরে গেছেন, তাদেরকে পেনশন সুবিধা দিতে সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই উপাচার্য।

স/এমএস