রাসিক মেয়র লিটনের উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে রাজশাহী

বিশেষ প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:১৫ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২০ সোমবার

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ২য় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের দুই বছরপূর্তি হচ্ছে ৫ অক্টোবর। এই দুই বছরে মহানগরীর উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। উড়াল সেতু, প্রশস্ত সড়ক, দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফুলে ফুলে সজ্জিত ও আলো ঝমমলে শহর এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ মহানগরবাসী নজর কেড়েছে।

এরই সাথে যোগ হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, যার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। কর্মসংস্থানের জন্য তিনটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজেও অগ্রগতি হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও থেমে নেই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ। করোনা সংক্রমণ মোকাবেলা ও গরীব অসহায় মানুষের পাশে থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নগরপিতা। 

২০১৮ সালে ৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হন জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

‘চলো বদলে দেই’ অনন্য এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ওই নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রাজশাহী মেয়রকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শপথের একমাস পর ৫ অক্টোবর ২০১৮ শতকোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

২০১৯ সালের ২৮ মে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদ লাভ করেন মেয়র লিটন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও রাজশাহীকে একটি পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও বাসযোগ্য স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন।

শুরুতেই সিটি কর্পোরেশনে শৃঙ্খলা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন মাসের শুরুতে প্রদান করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নগরপিতা। এরপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নগরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের দিকে। তাঁর গৃহিত পদক্ষেপে ধীরে ধীরে রাজশাহী পরিণত হয়ে উঠে সবুজ আর ফুলের নগরীতে। এরই ফলশ্রুতিতে দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে ‘এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অব দ্য ইয়ার-২০২০ সম্মাননা’ অর্জন করে এই মহানগরী।

সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন:

দীর্ঘদিন থমকে থাকা সড়ক উন্নয়নে দৃষ্টি দেন নগরপিতা। দুই বছরেই যোগাযোগের এসেছে আমূল পরিবর্তন। ১৮৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আলিফ লাম মীম ভাটার মোড় হতে বিহাস পর্যন্ত ৬ দশমকি ৭৯৩ কিলোমিটার ৪ লেন সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের দুই পাশে ফুটপাথ, ১টি ব্রীজ, ৮টি কালভার্ট, মিডিয়ান ও ট্রাফিক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩২ টাকা বয়ে ২০২ দশমিক ৫০ মিটারের ফ্লাইওভার এবং ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য এর র‌্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার নগরবাসীর নজর কেড়েছে। 

মহানগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আলুপট্টি মোড় থেকে তালাইমারি। দীর্ঘদিন যাবৎ এই সড়কের কাজ বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সড়কটির কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় বর্তমান সড়কটির প্রশস্ত করে ৪ লেন সড়কে উন্নীতকরণ কাজ চলমান রয়েছে। সড়কের দুই পাশে ২.২০ মিটার চওড়া ফুটপাথ নির্মাণ ও আধুনিক সড়ক বাতি স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে সড়কটির দক্ষিণ পাশে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাথ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

মহানগরীর মনিচত্বর থেকে ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত সড়কটি সরু হওয়ায় তীব্র যানজট দেখা যায়। নগরবাসীকে এই যানজট থেকে মুক্তি দিতে এই সড়কটিও ফোরলেনে উন্নীত করছে সিটি কর্পোরেশন।

রাজশাহী মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মনিচত্বর থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার ৮৪৮ টাকা।

বতর্মানে প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। সীমানা প্রচীর ও ড্রেন নির্মাণ শেষে সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২১ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিলসিমলা রেলক্রসিং হতে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত সড়ক ফোরলেন উন্নীত হচ্ছে। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সড়কটির কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কাজটি দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটির আওতায় ৩০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৮০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। দুইপাশে ফুটপাত, ড্রেন ও দক্ষিণপাশে বাই সাইকেল লেন নির্মিত হয়েছে। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য আইল্যান্ডের কাজ চলমান আছে।

এই চারটি প্রকল্প ছাড়াও ১২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে উপশহর থেকে নগর ভবন, মালোপাড়া মোড় হয়ে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান। নগর ভবন থেকে মহিলা কলেজের সামনে হয়ে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি হয়ে রাণীবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে উপশহর মোড় হতে দড়িখরবোনা ও রাণীবাজার হতে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হয়েছে।

১৭২ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় মহানগরীর ওয়ার্ডসমূহে ক্ষতিগ্রস্থ ও নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান। প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থ কার্পেটিং সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং নতুন কার্পেটিং কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, থেমে থাকা বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করতেও তিনি গ্রহণ করেছেন যথাযথ উদ্যোগ। বদলে যাচ্ছে নগরী প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি। এখানে ১৬তলা বিশিষ্ট সিটি সেন্টার ও আধুনিক মসজিদের পাশপাশি দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে ওয়াকওয়ে, বসার স্থানসহ দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী ভূবনমোহন পার্কেরও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প:

২৯৩১ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সকল ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ করা হবে। ওয়ার্ডসমূহের পানি নিষ্কাশনে উপযুক্ত নর্দমা নির্মাণ করা হবে।

মহানগরীর সকল গোরস্থানসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লাশ দাফনের স্থান উপযুক্তভাবে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বর্তমান সড়ক ৪ লেন-এ উন্নীত করে নির্মাণ করা হবে।

মহানগরীতে অবস্থিত ৪টি কাঁচা বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, নিরাপদ চলাচলে ফুটপাথ নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলাশয় সমূহের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রকল্পের আওতায় করা হবে। টেকসই ও উপযুক্ত মানের সড়ক নির্মাণার্থে গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট ক্রয় এবং রাজশাহী শিশু পার্কে গেমস্ স্থাপন কাজ প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হবে।

মহানগরীতে উপযুক্তমানের একটি সিটি কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ, নির্বিঘ্নে ও দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডে তিনতলা বিশিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয় কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ এ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

মহানগরীর যানজট নিরসনে ভদ্রা, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্ত্বর, বর্ণালী, নতুন বিলসিমলা, বহরমপুর, রাজশাহী কোর্ট এবং নতুনপাড়া রেলওয়ে ক্রসিং-এ বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ এ প্রকল্পের আওতায় করা হবে। প্রকল্পের কাজ শিগগিরই দৃশম্যান হবে। নির্ধারিত মেয়াদ জুন, ২০২৪ এর মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহানগরীকে নতুন রূপে দেখা যাবে। 

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উন্নয়ন:

মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়াডে নতুন সিসি ও কার্পেটিং রাস্তা, রাস্তা কার্পেটিং, ড্রেন নির্মাণসহ নানাবিধ উন্নয়ন কাজ চলছে।

সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের দিকনির্দেশনায় কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধায়নে এসব কাজ চলছে।

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দুই বছরে মহানগরী ৩০টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৪ কিলোমিটার নতুন রাস্তা, প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পুরাতন রাস্তার কার্পেটিং কাজ, সাড়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ও নর্দমার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে দেড় কোটি টাকার সিসি ও কার্পেটিং রাস্তা, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। জাহাঙ্গীর সরনী শিরোইল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড হতে ভদ্রা মোড় হয়ে তালাইমারী রুয়েট গেট পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন:

ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের বহুমুখী উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ফোরলেন সড়কের পাশে প্রশস্তু ড্রেন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। সহজে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও কাদামাটি উত্তোলন করতে ১০টি বড় ড্রেনের পাশে ১০টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০৫দিন ব্যাপী ড্রেনের কাদামাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

প্রথম মেয়াদে ২০১৩ সালে জলাবদ্ধতা দূরকরণে ‘রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজে ধীরগতি ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেন মেয়র। ১৯৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার প্রাইমারি, ১৯ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সেকেন্ডারি এবং ৬৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার টারশিয়ারি নর্দমা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে অগ্রগতি:

বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও রাজশাহীর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে তিনটি শিল্পাঞ্চল অনুমোদন দিয়েছেন। এরই মধ্যে গত ৪ জুলাই বিসিক শিল্পনগরী-২ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের কেচুয়াতৈল এলাকায় ৫০ একর এলাকায় ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে বিসিক-২। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে, জুন ২০২১ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি দেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং এর ফলে একটি বিশেষায়িত শিল্প নগরী স্থাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা পূরণ হবে।

এর পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও চামড়া শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠারও ব্যাপারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মেয়র। চামড়া শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই শিল্পমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে ঢাকায় বৈঠক করেন মেয়র। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। যেখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন: 

২ বছরেই সড়ক, অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অত্যাধুনিক ৩টি এসটিএস এর কার্যক্রম চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আরো আধুনিকায়নে শিগগিরই আরো ৫টি অত্যাধুনিক এসটিএস নির্মাণ করা হবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত রাখতে গত ১ অক্টোবর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ:

ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে পদ্মা নদীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরে এনে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন মেয়র। ২০১৯ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদী ড্রেজিং, শহর রক্ষা বাঁধ স¤প্রসারণ ও খাল পুনঃখনন বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন তিনি।

ভারতের মুর্শিবাদের ধূলিয়ান থেকে রাজশাহী হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ড্রেজিং করা এবং নদীরধারের উন্নয়নে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ডিও দেন নগরপিতা।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০৯টি পরিবার পেয়েছে পাকা বাড়ি:

সিটি মেয়রের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০৯টি পরিবার পেয়েছে পাকা বাড়ি। রাসিকের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট শাখার কমিউনিটি হাউজিং ফান্ড থেকে গৃণ নির্মাণ ঋণের মাধ্যমে এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। অক্টোবর ২০১৮ থেকে অক্টোবর ২০২০ সাল পর্যন্ত সিডিসি‘র ১৭নং ওয়ার্ডে ৫টি, ২৮নং ওয়ার্ডে ১০টি, ২২নং ওয়ার্ডে ৫টি, ৬নং ওয়ার্ডে ৬টি, ২৪নং ওয়ার্ডে ২০টি, ১৬নং ওয়ার্ডে ১০টি, ২৬নং ওয়ার্ডে ৩টি, ৩০নং ওয়ার্ডে ৬টি, ২নং ওয়ার্ডে ৯টি, ১৮নং ওয়ার্ডে ৭টি, ৩নং ওয়ার্ডে ৬টি, ২১নং ওয়ার্ডে ২টি, ২৭নং ওয়ার্ডে ৩টি, ১০নং ওয়ার্ডে ১টি, ৯নং ওয়ার্ডে ৩টি, ২৯নং ওয়ার্ডে ১১টি, ২৫নং ওয়ার্ডে ১৮টি পরিবারের প্রত্যেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা গৃহ ঋণ পেয়েছেন।

৩০টি ওয়ার্ডে ১৮৫টি সিডিসি‘র কার্যক্রম চলমান আছে। সিডিসি‘র উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য গলিপথের রাস্তা পাকাকরণ, ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ, টিউবয়েল, ল্যাট্রিন, পেশাগত ও নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

বিনোদনকেন্দ্রের উন্নয়ন:

দায়িত্বগ্রণের পর পদ্মাপাড়ের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন মেয়র লিটন। লালন শাহ মুক্তমঞ্চ, পদ্মা গার্ডেনসহ পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।নতুন রুপ পেয়েছে রাজশাহীবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র পদ্মাপাড়। 

মহানগরীকে চারটি জোনে বিভক্তকরণ:

জনগণের দৌড়গোড়ার নাগরিক সেবা পৌছে দিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। ২৪,২৫,২৬,২৭,২৮,২৯ ও ৩০ ওয়ার্ড নিয়ে পূর্ব অঞ্চল, ১,২,৩,৪,৫,৬,৭ ও ৮ ওয়ার্ড নিয়ে পশ্চিম অঞ্চল, ১৪,১৫,১৬,১৭,১৮ ও ১৯ ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর অঞ্চল ও ৯,১০,১১,১২,১৩,২০,২১,২২ ও ২৩ ওয়ার্ড নিয়ে মধ্য অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এসব আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। 

মুজিববর্ষ উদ্যাপনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ যথাযথভাবে বছরব্যাপী উদযাপন করছে সিটি কর্পোরেশন। মুজিবর্ষের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিতে সাজানো হয় মহানগরী। নগর ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে, প্রকাশ করা হয়েছে “উত্তরবঙ্গে বঙ্গবন্ধু” গ্রন্থ।

এছাড়া বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী পালন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শিশুদের জন্য ভালোবাসা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদানসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়েছে।

বিরতিহীন ট্রেন চালু:

মহানগরবাসী দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ট্রেন চালু। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতীহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূরণ হয় নগরপিতার অন্যতম একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন। 

ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে ফিরেছে চাঞ্চল্যতা:

ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে ফিরেছে চাঞ্চল্য। ইতোমধ্যে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ নানা ধরনের খেলাধূলা। রাজশাহীতে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ও নাটোৎসবের বর্ণিল আয়োজন। 

আলোকিত শহর পেয়েছেন নগরবাসী:

রাজশাহী এখন আলো-ঝলমলে শহর। প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আলোকায়ন করা হয়েছে। মহানগরীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ১৬টি বসানো হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সুুউচ্চ বিদ্যুৎ লাইট পোল (High Mast Pole With Lighting System), যা নগরীকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রতিটি পোলের উচ্চতা ৫৬ ফিট। একেকটি পোলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ২০টি করে এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। প্রতিটি পোলের চারপাশে নূন্যতম আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই পোলের লাইটে আলোকিত হচ্ছে। এই আলোর কারণে মহানগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

শিক্ষাখাতে অগ্রগতি:

শিক্ষানগরী রাজশাহীতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে রাসিক মেয়রের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক রায়হানা তসলিম রাসিক মেয়রের সাথে নগর ভবনে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে রাজশাহীতে নতুন দুইটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। নতুন দুইটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে।

রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সিটি মেয়র।

এছাড়া ২০১৯ সালের ২৮ মে ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা ও উপ-পরিচালক (শিক্ষা) বিজয় ঘোষের সাথে বৈঠক করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

মেয়রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগরীর ছয়টি সরকারি স্কুল পেতে যাচ্ছে নতুন ভবন। প্রতিটি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি লোকনাথ স্কুলও পাচ্ছে নতুন ভবন।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন:

স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও এই সিটি অর্জন কম নয়। ইপিআই কার্যক্রমে টানা নয়বার জাতীয়ভাবে দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং করোনা সংক্রমণ মোকাবেলা, বাড়ি বাড়ি ও বুথ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ, করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদানসহ উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রেখে চলেছে সিটি কর্পোরেশন। করোনাকালেও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রেখেছে সিটি কর্পোরেশন।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ:

রাজশাহীতে বিশ্বমানের পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ ও হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১১ জুলাই ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সচিব মোঃ মহিবুল হকের সাথে বৈঠক করেন রাসিক মেয়র লিটন। বৈঠকে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ ও বিমানবন্দরে নতুন দ্বিতল টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে উন্নীত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দেন মেয়র। এরপরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়।

২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মেয়রের কাছে পাঠানো জানানো হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও নবরুপায়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান টার্মিনাল ভবন নবরুপায়ন, স¤প্রসারণ ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রবর্তন করা হবে। 

রাজশাহী-আব্দুলপুর ডুয়েল গেজ রেল লাইন চালুর উদ্যোগ:

আব্দুলপুর হতে রাজশাহী পর্যন্ত সিঙ্গেল ব্রডগেজ রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১১ জুলাই রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, এমপি বরাবর ডিও লেটার দেন মেয়র লিটন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন রেলমন্ত্রী।

বিদেশীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করা:

রাজশাহীতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাষ্ট্রদূতদের নগরপিতা রাজশাহীতে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই শহরটিতে বিনিয়োগ গুরুত্ব তাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ভারত, চীন, নরওয়ে, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত রাজশাহী সফর ও মেয়রে সাথে বৈঠক করেছেন।

করোনাকালে মানুষের পাশে নগরপিতা:

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মার্চের প্রথম থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিজে মাঠে থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌছে দেওয়া থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন।

জনসচেতনাসৃষ্টি, করোনা মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ও ৩০টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে করণীয় নির্ধারণ, বিদেশ ফেরত ও দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, নগরীর ২৭টি পয়েন্টে স্যানিটিইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্প্রে, জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন, করোনা ল্যাব স্থাপনে সহযোগিতা, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় পিপিই প্রদান, করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের লক্ষাধিক মানুষকে দফায় দফায় ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রদান করা হয়েছে খাদ্য সহায়তা। সরকারি সহায়তা ১৫৯১ মেট্রিকটন চাল, ৫৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও ২৯০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

মেয়রের ব্যক্তিবগ উদ্যোতে ৩২৬ মেট্রিকটন চাল, ৬১ মেট্রিকটন ডাল, ৬৩ মেট্রিকটন আলু, ১৫ মেট্রিকটন ময়দা, ৩৯ মেট্রিকটন মিষ্টি কুমড়া, ৪দশমিক ৫২ মেট্রিকটন পুইশাক, ৯৮৯ লিটার তেলসহ পেয়াজ, সাবান, চিনি, লবনসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী।

স/এনআর/এমএস